পুলিশের কঠোর বাধার মুখে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির চতুর্থ দিনে সায়েন্স ল্যাবে অবস্থান করতে পারেননি কোটাবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। সায়েন্স ল্যাব থেকে বের হয়ে তারা নীলক্ষেত বা ঢাকা কলেজের সামনেও দাঁড়াতে পারেননি। ব্লকেড করতে না পেরে অবশেষে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) ৫টার দিকে ঘোষণা দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা কলেজ শাখার সমন্বয়ক নাজমুল হাসান বলেন, ‘আজকের মতো সায়েন্স ল্যাবের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করছি।’
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা ছিল। বিকাল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত সেখানে আন্দোলনকারীদের দেখা যায়নি। পরে ৪টা ২০ মিনিটে মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আসেন তারা। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নিতে পারেননি।
আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে গিয়েও পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিমুখে যেতে চাইলেও তাদের যেতে দেওয়া হয়নি। পরে নীলক্ষেত মোড় থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা কলেজের সামনে অবস্থান নেন। অন্য দিনের তুলনায় আজ সায়েন্স ল্যাব মোড়ে পুলিশের উপস্থিতিও বেশি দেখা গেছে।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা কলেজ শাখার সমন্বয়ক নাজমুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে পাবলিক লাইব্রেরির দিকে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা দিয়েছে। আমরা খুবই হতাশ। আমরা বলতে চাই, পুলিশ দিয়ে আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। সংবিধান নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সভা সমাবেশ মিটিং মিছিল করার অধিকার দিয়েছে। সেই অধিকার আপনারা ক্ষুণ্ন করতে পারেন না। নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের মিছিলে বাধা দেওয়ায় আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা ৫ জুলাই থেকে সায়েন্স ল্যাব ও নীলক্ষেতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছি। আমরা কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি। তারপরও পুলিশ আমাদের বাধা দিয়েছে। আমরা আগামীতে সাত কজেলের শিক্ষার্থীরা মিলে আরও শক্তিশালী হয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, ছাত্রসমাজের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে আমাদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে চাই।
এ সময় কেন তাদের বাধা দেওয়া হলো, জানতে চাইলে পুলিশের নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রেফায়েতুল ইসলাম বলেন, তাদের শুধু শাহবাগে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তারা কোথাও যেতে পারবে না।
তারা বলেছিল তারা শাহবাগে যেতে চেয়েছিল, তবু তাদের যেতে দেওয়া হয়নি কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা শাহবাগে যেতে চায়নি। তারা নীলক্ষেতে ঘুরে ইউটার্ন নিয়েছে। আর আমাদের কাছে খবর আছে তারা নীলক্ষেতে বসে পড়তো।
এর আগে আদালতের আদেশের পরও কোটা আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিনের এমন বক্তব্যের পর রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবেরেটরি মোড়ে পুলিশের বাড়তি উপস্থিতি দেখা গেছে।









