গতকাল সোমবার (১৫ জুলাই) সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় সারা দেশে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করে কোটা আন্দোলনকারীরা ও ছাত্রলীগ। সেই কর্মসূচি সফল করতে রাজু ভাস্কর্যে ছাত্রলীগ ও শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর দেড়টায় ছাত্রলীগের সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও এই সময় পর্যন্ত তাদের কাউকে স্পটে দেখা যায়নি। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রাজু অবস্থান নেন। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগের সমাগম বাড়তে থাকে। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে রড়, হকি স্টিক, বাঁশ, এসএস পাইপ, লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র বহন করতে দেখা যায়। এছাড়াও তাদের মাথায় রয়েছে হেলমেট।
এদিকে সোয়া ৩টার দিকে শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। এসময় তাদের হাতে লাঠি-সোঁটা দেখা যায়।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি প্রক্টরিয়াল সভা ডেকে পাঁচ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বলা হয়, শিক্ষার্থী সমাবেশে কোনও ধরনের লাঠি-সোঁটা বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারবে না এবং বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু ছাত্রলীগের সমাবেশে যুবলীগ, ঢাকা কলেজ ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সশস্ত্র উপস্থিতি দেখা যায়।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি অনুষদের সহকারী প্রক্টর ড. মো. আবদুল মুহিত ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আসেন। এসময় ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেন। জোরাজুরি করার একপর্যায়ে তিনি কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘোষণা দেয়ার পরও কেন বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে সশস্ত্র অবস্থান করছে– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। দেখে গিয়ে তারপর মাইকিং করবো তারা যেন ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। তারপর ঘোষণা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেবো।
এর ১০ মিনিট পর প্রক্টরিয়াল টিম হ্যান্ড মাইক নিয়ে বহিরাগতদের বের হয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও তাদের ঘোষণার প্রতি ভ্রুক্ষেপও করতে দেখা যায়নি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের।
প্রক্টরিয়ার টিম পরে শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে গেলে আন্দোলনকারীরা হামলা চালায়। একদল শিক্ষার্থী তেড়ে এসে বলতে থাকতে ‘কালকে কোথায় ছিলেন’ এবং কেউ কেউ অকথ্য ভাষায় গালিও দেয়। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেয়। প্রক্টররা তখনই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ফুটপাতে অবস্থান করেন।
সহকারী প্রক্টর ড. মো. আবদুল মুহিত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে নিলে পেছন থেকে লাঠি দিয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলা করা হয়। পেছন থেকে দৌড়ে এসে কয়েকবার লাঠি ও বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয় তাকে। এতে তিনি ফুটপাতে লুটিয়ে পড়েন। তার সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যায়। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।









