ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত শান্তি সমাবেশে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট শাখা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে যোগ দেন। তারা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশের মঞ্চের সামনে এসে দাঁড়িয়ে যান। যার কারণে পেছনে অবস্থান করা নেতাকর্মীদের দেখা যাচ্ছিল না। মঞ্চের উল্টো দিকে অবস্থান করা বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যানরাও ভালো করে ছবি তুলতে পারছিলেন না। এ কারণে মঞ্চ থেকে বারবার ব্যানার নামাতে আহ্বান জানানো হচ্ছিল। কিন্তু বেশিরভাগই তাদের ব্যানার নামাচ্ছিল না। বরং একজনের দেখাদেখি অন্যরাও ব্যানার তুলে ধরছিলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী মাইক নিয়ে ব্যানার নামানোর নির্দেশ দেন। তিনি ব্যানারে থাকা নেতাকর্মীদের নাম ধরে ব্যানার নামাতে বলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। একপর্যায়ে তিনি রিয়েলসহ আরও একজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, তোমরা কী এখানে নেই? নাকি বাড়িতে বসে ব্যানার পাঠিয়ে দিয়েছো?
এ সময় আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াও ব্যানার সরাতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আমাদের কাছে বারবার অনুরোধ করছেন। ব্যানারের কারণে তারা উপস্থিতির ছবি নিতে পারছেন না।
একপর্যায়ে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি মাইক নিয়ে সবাইকে ব্যানার নামাতে নির্দেশ দেন। তিনি বলতে থাকেন, নামের তালিকা করে বহিষ্কার করা হবে। তিনি কেরানীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান ও কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিন আহমেদের নাম উল্লেখ করে বলেন, শাহিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কামরাঙ্গীরচর আওয়ামী লীগ নেত্রী পারুল বেগমের নাম ধরে বলেন, পারুল বেগমের খবর আছে। অপর একজন কাউন্সিলরের ব্যানার দেখে বলেন, কাউন্সিলরগিরি শিখিয়ে দেবো। এ সময়ে তিনি ধমকের স্বরেও কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ বক্তব্য রাখার শুরুতে বলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বলেছেন বহিষ্কার করা হবে। তারপরও কেউ কথা শোনে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বক্তব্য দেওয়ার আগে দুই মিনিট ধরে ব্যানার নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, বায়তুল মোকাররম থেকে নগর ভবন পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে। কিন্তু ব্যানারের কারণে দেখতে পাচ্ছি না।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকও বক্তব্যের শুরুতে ব্যানার সরাতে বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। দলীয় শৃঙ্খলার প্রমাণ দেখাতে সবাই ব্যানার নামিয়ে ফেলুন।









