গতকাল (১৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা চাকরি পাবে না। চাকরি পাবে যত সব রাজাকারের বাচ্চা, নাতিপুতিরা?’ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের হেয় করেছেন বলে দাবি তাদের। এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশটির আয়োজন করে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।
এ সময় আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আমাদের ভাইবোনেরা মাঠে নামা শুরু করেছে। আপনারা বিশ্বাস করেন কিনা ৫৬ শতাংশ কোটা উন্নত বাংলাদেশের সঙ্গে যায় না। ৫৬ শতাংশ কোটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যায় না। গতকাল প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশ করে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যা বলেছেন, তা আমাদের আশাহত করেছে।
আমরা আমাদের সব দাবি নির্বাহী বিভাগ, আইনসভার কাছে উপস্থাপন করেছিলাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাবি বাস্তবায়নে আমরা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছিলাম। কিন্তু তিনি গতকাল যা বলেছেন, এতে আমাদের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমাদের যেই ফ্রেমিংই করা হোক না কেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো কোটার যৌক্তিক সংস্কার। আমরা তপ্ত দুপুরে রাজু ভাস্কর্যে লড়াইয়ের জন্য আসিনি। আমরা এসেছি পড়াশোনা করার জন্য, তাই আমরা যেন পড়ার টেবিলে ফিরতে পারি সরকারকেই সে ব্যবস্থা করতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
মিডিয়ার উদ্দেশে সারজিস বলেন, মিডিয়ার ওপর আস্থা রাখি। আশা করি আপনারা সত্য তথ্য তুলে ধরেন। আপনাদের মধ্যে থাকা সাংবাদিক নামধারী কয়েকজন এই পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ করতে হবে। এই বিষয়ে আপনাদেরই সোচ্চার হতে হবে। গুটিকয়েক কালপ্রিট আর তোষামোদকারীর জন্য পুরো সাংবাদিক সমাজ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলেও দাবি করেন সারজিস।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে জড়ো হতে থাকেন। স্লোগান দিতে থাকেন প্রায় এক ঘণ্টা ধরে। ইডেন কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা বের হতে চাইলে ছাত্রলীগ নেত্রীরা গেটে আটকে দেয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে বের হয়ে ঢাকা কলেজসহ মিছিল নিয়ে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে দুপুর সোয়া ১টায়। দুপুর দেড়টায় সমাবেশে যোগ দেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা—‘কে রাজাকার, কে রাজাকার? তুই রাজাকার, তুই রাজাকার’, ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারও বাপের না’, ‘তুমি নও, আমি নই, রাজাকার, রাজাকার‘, ‘আমি কে? রাজাকার?’, ‘জবাব চাই, দিতে হবে,’ ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’, ‘প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য, প্রত্যাহার করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
এদিকে সোমবার দুপুর ২টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলা থেকে মিছিল শুরু করেন জবি শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়ে জনসন রোড ও ইংলিশ রোড দিয়ে গুলিস্তান অভিমুখে এগিয়ে যায়। পরে দুপুর ৩টায় ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশে যোগ দেয়।
এর আগে সকাল ১১টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে শহীদ মিনারে আধঘণ্টার মতো অবস্থান করেন। এরপর সাড়ে ১১টায় সমবেতভাবে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সমাবেশে অংশ নেন তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে দুপুর সোয়া ২টায় মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা হলপাড়ার উদ্দেশে রওনা দেন।









