২০১৫ সালে কনস্টেবল পদে পুলিশে যোগদান করেছিলেন রাঙামাটির তুহিন হোসেন। গত শনিবার (৪ জুন) রাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। বিস্ফোরণের পর ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন এই পুলিশ সদস্য। তার পায়ের গোড়ালি উড়ে গেছে। সহকর্মীরা তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, পরে তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ কনস্টেবল তুহিন হোসেনের একটি মাত্র কন্যা সন্তান আছে। তার বয়স ২১ মাস। পরিবারে আরও আছেন মা, বাবা, স্ত্রী ও এক বোন। বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় বিষণ্ণ অবস্থায় পড়ে আছেন তুহিন। তার ডান পায়ে ব্যান্ডেজ মোড়ানো, পায়ের গোড়ালি নেই। ড্রেসিং করার সময় আর্তনাদে কেঁপে ওঠেন তিনি। এখনও ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না।
তুহিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাড়ে ৮টা- ৯টার দিকে আগুন লাগে ডিপোতে। কিন্তু বিস্ফোরণ কখন হয়েছে সেটা মনে নেই। যখন বিস্ফোরণ হয়েছে ভেতরে অনেক মানুষ ছিল। বিস্ফোরণের পর কেমিক্যালগুলো ছড়ায় পরছে, অনেকের গায়ে লাগছে। এখন সেটা কেমিক্যাল ছিল নাকি অন্য কিছু, বলা যাচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর আমি আহত হই। আমি তখন ব্যথায় কাতরাচ্ছিলাম। কেউ ভেতরে ঢুকতেছিল না। আমি অনেকখানি পথ এক পা দিয়ে গেটের কাছাকাছি পর্যন্ত আসছি। দারোগা স্যার আমাকে হসপিটালে নিয়ে গেছে। এইটুকু মনে আছে।’
তিনি বলেন, ‘এসপি স্যার আমার সঙ্গে লোক পাঠিয়েছেন, তিনি আমার খোঁজ রাখছেন।’
তুহিনের বাবা মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘রাতে আমাকে একজন ফোন দিয়ে বলেছে— তুহিনের খবর পাইছেন কিনা, সে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। রাতে আমরা চট্টগ্রাম মেডিক্যালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর জানলাম যে, তাকে এদিকে নিয়ে আসছে। পরে ভাটিয়ারির এখানে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে পাইছি। রবিবার (৫ জুন) ভোরে তাকে ঢাকায় এই হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে চিকিৎসকরা দেখছেন, তবে আমাদের এখনও কিছু জানায়নি। আইজি স্যার, কমিশনার স্যাররা নাকি আশ্বাস দিয়েছেন— যতটুকু সহযোগিতা সম্ভব করা হবে, চিন্তা করতে না করছে। এখানে আসার পর ডিউটি করার জন্য দুই জন পুলিশ সদস্য দেওয়া হয়েছে। গতকালকে দুই থানার দুই ওসি স্যার আসছিলেন, তারা খোঁজ নিয়ে গেছেন।’
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল গনি মোল্লা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তুহিনকে প্রথমে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। পরে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। তার পা থেকে গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকার বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুন লাগে শনিবার (৪ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাতে একটি কন্টেইনারে আগুন লাগে। পরে সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ডিপোর বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৯ জন সদস্যসহ মোট ৪১ মারা যান, আহত হয়েছেন অনেকে। ২৫ ঘণ্টা পর রবিবার রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।









