সীতাকুণ্ডের ঘটনায় জয়েনিং ফোর্সেস বাংলাদেশ গভীর শোক, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।
সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
জয়েনিং ফোর্সেস বাংলাদেশ ৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি প্ল্যাটফর্ম যা ২০১৮ সাল থেকে শিশু অধিকার সুরক্ষায় এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষে কাজ করছে। এর সদস্যরা হচ্ছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, এডুকো বাংলাদেশ, এস ও এস চিলড্রেন ভিলেজ বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং টেরে ড্রেস হোম নেদারল্যান্ডস।
বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় দুইশতাধিক মানুষ আহত ও দগ্ধ হয়েছেন। ৯ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ এখন পর্যন্ত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অনেকে। জয়েনিং ফোর্সেস বাংলাদেশ এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত।
বিভিন্ন গণমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের বেসরকারি বিএম কন্টেইনার লিমিটেডের ডিপোতে আগুন লাগে যা গতকাল পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং থেমে থেমে বিস্ফোরণ হচ্ছিল। ঘটনার পর আগুন ও ছড়িয়ে পড়া বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী একযোগে কাজ করছে। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিহত ও আহতদের মধ্যে ১৭-২৪ বছর বয়সীরাও রয়েছেন । প্রাপ্তবয়স্ক অনেকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে যাদের পরিবারে রয়েছে শিশু সন্তান।
জয়েনিং ফোর্সেস বাংলাদেশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও আহতদের চিকিৎসাসেবায় যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি সম্মান জানাচ্ছে। পাশাপাশি নিহত সকল ব্যক্তি, যুব এবং এই ঘটনায় নিহতদের সন্তানদের জন্য গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা প্রকাশ করছে। গণমাধ্যমের সূত্র বলছে, ঘটনাস্থলে আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, উপরন্তু ডিপোতে থাকা আরও চারটি কন্টেইনারে রাসায়নিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে সেনাবাহিনীয় ব্রিফিংয়ে। সোনাইছড়ি উপজেলা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত কিনা তা এখনো একেবারেই অনিশ্চিত। এই সকল তথ্য নিশ্চিত করে যে, এই রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রভাব আশেপাশের এলাকার পরিবেশে দীর্ঘকাল থাকবে যা শিশুসহ সেখানে বসবাসকারী মানুষদের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
জয়োনিং ফোর্সেস বাংলাদেশ আরও মনে করে, এ ধরণের মর্মান্তিক একটি ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বহন করতে হবে এবং শিশুরা এর ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সকল দিক বিবেচনায় এ দুর্ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ, আহতদের সুচিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শিশু ও যুবদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা ও বর্তমানে আরও যে সকল কন্টেইনার ডিপো রয়েছে সেগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য দাবি জানাচ্ছে জয়েনিং ফোর্সেস বাংলাদেশ।









