কুড়িগ্রাম-৪ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিপ্লব হাসান পলাশের বিরুদ্ধে জাল ভোট ও অনিয়মের তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ওই আসনের জাতীয় পার্টির সাইফুর রহমান বাবলু ও স্বতন্ত্র মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী।
রবিবার (০৭ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রৌমারীর যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ী গ্রামে নিজ বাড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী এবং সদর ইউনিয়নের কোনাচীপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাইফুর রহমান বাবলু সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন।
ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বঙ্গবাসী বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সে মোতাবেক সবই ঠিক ছিল। কিন্তু আজ ভোটের দিন দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত নৌকার প্রার্থী বাইরে থেকে আনা ছাত্রদের কেন্দ্রে নিয়ে আমার এজেন্টদের বের করে জাল ভোট দেওয়া শুরু করেন। ডিসি, এসপি ও র্যাবকে বলেও কোনও প্রতিকার পাইনি। তারা শুধু বলেছেন, দেখতেছি। যেহেতু নৌকার প্রার্থী কারচুপি করেছেন, সেজন্য আমি এই ভোট বর্জন করলাম।’ এ বিষয়ে তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
একই অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির সাইফুর রহমান বাবলু। নিজ বাসভবন থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। নির্বাচনটা প্রহসনের হবে ভাবতে পারিনি। ভোট শুরুর পর থেকে শুরু হয় জাল ভোট। আমার কাছে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ফোন আসে, ছোট-ছোট ছেলেমেয়েরা জাল ভোট দিচ্ছে। যে যেভাবে পারছে নৌকায় সিল মেরে নিচ্ছে। তাই আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম।’
তবে দুই প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়টি নাকচ করেছেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান। তিনি বলেন, ‘এখানে জাল ভোট বা অনিয়মের কোনও সুযোগ ছিল না। তারা (ভোট বর্জন ঘোষণা দেওয়া দুই প্রার্থী) যখন যে কেন্দ্রের বিষয়ে জানিয়েছেন, আমরা সেখানে গেছি। আমরা সত্যতা পাইনি। এমনকি তাদের এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।’








