রাজধানীর সিদ্দিকবাজারে ক্যাফে কুইন স্যানিটারী মার্কেটে (পৌর ভবন) কোনও বিস্ফোরক দ্রব্যের আলামত পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্যাস থেকেই বিকট বিস্ফোরণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ভবনের বেসমেন্ট থেকেই এই বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণটি এতোটাই শক্তিশালী ছিলো যে, প্রথম ও দ্বিতীয় তলার ছাদ ধসে পড়েছে। এ ছাড়া নিচের পিলারে ফাটল ধরেছে। উদ্ধার অভিযানও এখন সর্তকতার সঙ্গে করতে হচ্ছে।’
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্ফোরণে ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার ছাদ ধসে পড়েছে। তৃতীয় তলা থেকে সাত তলা পর্যন্ত আবাসিক বাসা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ভবনের যেখানে বিস্ফোরণটি ঘটেছে সেখানে ক্যাফে কুইন রেস্টুরেন্টের কিচেন ছিলো। সেটি ৭-৮ বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। ভবনের মালিক রেজাউল রহমান মারা যাবার পর ছেলেরা আর চালায়নি। তিন ছেলের মধ্যে দুইজন পরিবার নিয়ে ওই বাসাতেই থাকেন। আর এক ছেলে থাকেন বিদেশে। ভবনের এক থেকে তিন তলা আগে করা। পরে আরও চারতলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসা মালিকের আত্মীয় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ভবন নির্মাণের কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই। এ ছাড়া এই ভবনটি কোনও ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে করানো হয় নি, সাধারণ মিস্ত্রি দিয়ে করা।’
স্থানীয় একজন বলেন, ‘ভবনটি ৩০ থেকে ৩৫ বছরের পুরানো। এখানে প্রথমে নিচে রান্নাঘর আর দুই ও তিন তলায় ক্যাফে কুইন রেস্টুরেন্ট চালাতেন বাসার মালিক রেজাউল রহমান। আর রান্না ঘরের পাশের অংশ স্যানেটারি দোকান। পরে তার অনুপস্থিতিতে ছেলেরা এটাকে স্যানেটারি মার্কেট করে ভাড়া দিয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আসা কয়েকজন ব্যক্তি জানান, এখানে আসার পরও তারা গ্যাসের গন্ধ পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণ।
এই কথার সত্যতাও মেলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক দিনমনি শর্মা বক্তব্যে।
বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে এসে গ্যাসের গন্ধ পেয়েছি। তখন আগে গ্যাসের লাইন বন্ধ করে কাজ শুরু করি।
তিনি বলেন, ‘এটা যেহেতু আবাসিক ভবন, সেহেতু গ্যাস লাইন থাকাই স্বাভাবিক। আর শুনেছি বিস্ফোরণের পাশে আগের রান্না ঘর ছিলো। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের কাজ চলেছ। সেনা বাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কাজ করেছে। এখন পর্যন্ত বিস্ফোরক আলামত পাওয়া যায়নি।’
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক অভিযান শেষ করেছি। তবে এখনো লাশ থাকতে পারে। কারণ ভবনের যেই অবস্থা, তাতে অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনে ফাটল ধরেছে। যে কোনও মূহুর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’
সিদ্দিকবাজারের রাস্তার ধারেই গায়ে গা লাগিয়ে চারটি ভবন দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে প্রথমে ফাতেমা মার্কেট, ক্যাফে কুইন (পৌর ভবন), চায়না পয়েন্ট আর কাদের ম্যানশন।
বিস্ফোরণে পাশের ভবনের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। চায়না পয়েন্টের তিন ও চার তলায় ব্র্যাক ব্যাংকের গ্লাস ভেঙে গেছে।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার এলাকায় সাত তলা একটি ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর পর শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযান রাত পৌনে ১১টার দিকে স্থগিত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক দিনমনি শর্মা।
তিনি বলেন, ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় ভবনের ভূ–গর্ভস্থ স্থানে উদ্ধার কাজ চালানো সম্ভব নয়। তাই উদ্ধারকাজ স্থগিত করা হয়েছে। সকালে সেনাবাহিনী আসলে আবার কাজ শুরু হবে।’









