সহিংস মৃত্যুতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা কাবুলের মতো শহরকেও বড় ধাক্কা দিয়েছে বৃহস্পতিবারের জোড়া বিস্ফোরণ। বিমানবন্দরের গেটে অপেক্ষারত মানুষের মাঝে ঘটানো এই বিস্ফোরণে অনেকেই বিভীষিকা দেখেছেন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার হয়ে একসময় কাজ করা এক ব্যক্তির দিনটা শুরু হয় খুব ভোরে।
বিমানবন্দরের গেটে অপেক্ষারত হাজার হাজার মানুষের সারিতে যোগ দিয়ে ওই ব্যক্তি তা খোলার অপেক্ষা করতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার শেষ হওয়ার আগেই বিমানে চড়তে পারবেন কিনা সেই চিন্তাতেই ছিলেন তিনি।
প্রায় দশ ঘণ্টা আগে গেটের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বিকাল প্রায় পাঁচটার দিকে ঘটে যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। তিনি বলেন, ‘মনে হলো যেন পায়ের নিচের মাটি সরে গেলো; কয়েক মুহূর্তের জন্য মনে হলো কানের পর্দা ফেটে গেছে, আর আমি কিছু শুনতে পাচ্ছি না।’
ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে প্লাস্টিকের ব্যাগ যে রকম ওড়ে সে রকম করে দেখলাম মানুষের শরীর ও শরীরের অংশ আকাশে উড়ে যাচ্ছে। আমি মরদেহ, ছিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখেছি। আহত নারী, পুরুষ ও শিশুদের চিৎকার করতে দেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘জীবনে কেয়ামত দেখা সম্ভব না, কিন্তু আজ আমি কেয়ামত দেখেছি, নিজের চোখে কেয়ামত দেখেছি।’
ওই ব্যক্তি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। কারণ, তালেবান নিয়ন্ত্রিত শহরে নিজের পশ্চিমা সমর্থনের কথা প্রকাশ নিয়ে ভয়ে রয়েছেন তিনি। মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে অভিযান শুরুর পর গত ২০ বছরে কাবুলে নিয়মিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর শহরের মানুষ এটা দেখে অভ্যস্ত যে নিরাপত্তা বাহিনী বিস্ফোরণস্থল ঘিরে রেখে নিহত ও আহতদের সরিয়ে নিচ্ছে।
ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আজ কেউ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ছিল না। মরদেহ সরানো, আহতদের হাসপাতালে কিংবা দৃষ্টির বাইরে নিয়েছে সাধারণ মানুষ। মরদেহ এবং আহতরা রাস্তা এবং খালে পড়ে ছিল। খালে সামান্য পানি থাকায় তাতে রক্ত বয়ে যাচ্ছিল।’ তিনি বলেন, ‘শারীরিকভাবে আমি ঠিক আছি... কিন্তু মনে হয় না আজকের বিস্ফোরণে পর মানসিক যে আঘাত পেলাম তা আমাকে আর কখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দেবে।’








