মাদক ছাড়তে বাধ্য করছে তালেবান

বিদেশ ডেস্ক
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৯আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৪৯

মোড়ানো মাথা, ঝুলে পড়া ত্বক আর ভয়াবহ দৃষ্টি নিয়ে তালেবান পরিচালিত নিরাময় কেন্দ্রে মাদকাসক্তরা ৪৫ দিনের নিরাময় কাল পার করছে। কেউ কেউ হয়তো মাদক ছেড়ে দিতে সক্ষম হচ্ছেন, আবার কেউ ফের মাদকাসক্তিকে জড়িয়ে পড়ছেন।

গত ১৫ আগস্ট তালেবান ঢুকে পড়ার আগে কাবুলের পুলিশ মাঝে মাঝে মাদকাসক্তদের গ্রেফতার করে নিরাময় কেন্দ্রে পাঠাতো। কিন্তু তালেবান নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মাদকাসক্তদের জড়ো হওয়ার জায়গাগুলোতে ঘন ঘন অভিযান চালানো হচ্ছে।

এক হাজার শয্যার ইবনে সিনা নিরাময় কেন্দ্রে একজন মাদকাসক্ততে ৪৫ দিন রাখা হয়। বড় ডরমেটরির কট কিংবা উঠোনে নিচু হয়ে থেকে সময় কাটে তাদের। আফিম ও হেরোইনে আসক্তদের সহায়তায় মেলে সামান্য ওষুধ। তবে নিরাময়ের ব্যথা নিরসনে কিছুই করা হয় না তাদের।

মাদকাসক্তদের নিরাময় কেন্দ্রে নেওয়ার পর প্রথমেই তাদের তল্লাশি করা হয়। এরপর পাঠিয়ে দেওয়া হয় গোসল করতে। শ্যাম্পুর প্যাকেট দিলেও কোনও তোয়ালে পায় না তারা।

সেখান থেকে বের হলে নাপিতের সামনে বসিয়ে দেওয়া হয় তাদের। উকুন ঠেকাতে চুল ফেলে দেওয়া হয়। এরপরে কাউকে হয়তো পাঁচ বেডের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় আর অন্যদের প্রায় ৩০ জন থাকার মতো ডরমেটরিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

১৯৯০-এর দশকে তালেবান শাসনের সময় আফগানিস্তানে পপি চাষ নিষিদ্ধ করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে হেরোইন রফতানি বেড়ে যায়। এ থেকে শত শত কোটি ডলার আয় করে গোষ্ঠীটি।

পপি চাষ সহজ এবং সস্তা হওয়ায় বিশ্বের হেরোইন উৎপাদনের ৯০ শতাংশই আসে আফগানিস্তান থেকে। এছাড়াও দেশটিতে বেড়েছে ক্রিস্টাল মেথের উৎপাদনও।

মাদকবিরোধী বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের তিন কোটি ৪০ লাখ জনগোষ্ঠীর ১১ শতাংশ মাদক ব্যবহার করে। আর এর চার থেকে ছয় শতাংশ মাদকাসক্ত।

এবার ক্ষমতায় ফিরে তালেবান মাদক উৎপাদন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইবসে সিনা নিরাময় কেন্দ্রের প্রধান ডা. আহমেদ জোহর সুলতানি বলেন, ‘এটাই ইসলামিক আমিরাতের নীতি।’

বর্তমানে কেন্দ্রটির সব কর্মী বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। বিপর্যয়ের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা আফগান অর্থনীতি চার মাস ধরে বেতন পরিশোধ করতে পারছে না।

ডা. আহমেদ জোহর সুলতানি জানান, তালেবান ক্ষমতা দখলের পর তিনি ভেবেছিলেন হয়তো তার কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রতি তাদের মনোভাব স্পষ্ট ছিল না। তবে দেশটির নতুন শাসকেরা শিগগিরই তাদের জানিয়ে দেয় কার্যক্রম চলতে পারবে।

নতুন শাসকদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওই চিকিৎসক কেন্দ্রের দেয়ালে থাকা সব ছবি নামিয়ে ফেলেন। আর পশ্চিমা পোশাক স্যুট-টাই বদলে ঐতিহ্যবাহী সালোয়ার-কামিজ পরা শুরু করেন।

/জেজে/এমওএফ/
টাইমলাইন: আফগানিস্তান সংকট
০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:১৫
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৯
মাদক ছাড়তে বাধ্য করছে তালেবান
০৫ অক্টোবর ২০২১, ২০:১০
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম