ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অব আফগানিস্তানের নেতৃত্বে আহমদ মাসুদ। বাবা আহমদ শাহ মাসুদের কাজটা ঠিকঠাকভাবেই করছেন পাঞ্জশির উপত্যকার এই নেতা। আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রধান নেতা ছিলেন কিংবদন্তি শাহ মাসুদ। ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদা গোষ্ঠীর হাতে খুন হন তিনি। তারপর থেকেই পাঞ্জশির উপত্যকায় শাসন করে আসছেন তার ছেলে মাসুদ।
বাবার খুব কাছে থেকেই শিখেছেন কীভাবে একটি বাহিনীকে নেতৃত্ব দিতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত ভাইস প্রেসিডেন্ট সালেহের সঙ্গে মাসুদকে বৈঠক করতে। মনে হচ্ছে, তালেবানের বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের বিরুদ্ধে দশকের পর দশক ধরে লড়াই করেছেন তারা বাবা। এখন একই কাজটা করে যাচ্ছেন মাসুদ নিজেও। এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে মতামতে মাসুদ লিখেছেন, 'আমি পাঞ্জশির উপত্যকা থেকে লিখছি, তালেবানকে আবারও মোকাবিলা করতে মুজাহিদিন যোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করার জন্য প্রস্তুত। আমাদের কাছে গোলাবারুদ এবং অস্ত্রের ভাণ্ডার রয়েছে। এসব অস্ত্র আমরা বাবার সময় থেকে ধৈর্য ধরে সংগ্রহ করে আসছি। কারণ, এই দিনটি আসবে আমরা জানতাম’।
গোটা আফগানিস্তানে আধিপত্য কায়েম করতে পারলেও এখনও হিন্দুকুশ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত পাঞ্জশির উপত্যকায় প্রবেশ করতে পারেনি তালেবান যোদ্ধারা। সম্প্রতি রাজধানী কাবুল দখলে করে নিয়েছে তালেবান। সামনের মাসেই সরকার গঠন করতে পারে গোষ্ঠীটি। আতঙ্কে বহু লোকজন দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন।
পাঞ্জশিরে তালেবানমুক্ত রেখেছে আহমেদ মাসুদের বাহিনী। আত্মসমর্পণ না করলে এখানে বড়সড় আক্রমণের হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিল তারা। এবার তাদের শতাধিক যোদ্ধা উপত্যকার উদ্দেশে যাচ্ছে। সেখানে তালেবানের শাসন কায়েম করাই তাদের লক্ষ্য।
ওয়াশিংটন পোস্টে মাসুদ আরও যোগ করেন, 'কোনও সন্দেহ নেই যে গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের নিয়্ন্ত্রণ নিয়েছে। ফলে এখানে আবারও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হবে'। এর আগে সবাইকে তালেবানের বিরুদ্ধে এক হওয়ার আহ্বান জানান মাসুদ। আর আত্মসমপর্ণ তার শব্দভাণ্ডারে নেই বলেও জানান দেন তিনি।
পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে সাহায্যের আহ্বান জানিয়ে পাঞ্জশির উপত্যকার এই নেতা বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন লড়ে যাচ্ছি মুক্ত সমাজের জন্য, যেখানে নারীরা চিকিৎসক হতে পারবেন, আমাদের সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, তরুণরা নাচ-গান করতে পারবে। পাশাপাশি খেলাধুলায় স্বাধীনভাবে অংশ নিতে পারবে এখানকার মানুষ। কিন্তু এসবের জন্য তালেবান একসময় মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দিতো। সেই সময় আবারও বোধহয় ফিরে এসেছে’।
তার বাবা আহমদ শাহ মাসুদ পাঞ্জশিরের সিংহ বলে পরিচিত। উপত্যকায় তালেবানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ৯/১১ হামলার মাত্র দুই দিন আগে আল-কায়েদা জঙ্গিরা তাকে হত্যা করে।
১৯৯০ দশকের গৃহযুদ্ধের সময় পাঞ্জশির উপত্যকা কখনও তালেবান নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গৃহযুদ্ধের এক দশক আগে সোভিয়েতরাও তা দখল করতে পারেনি। এখন এটিই তালেবানবিরোধী শক্তির একমাত্র শক্তিশালী ঘাঁটি।








