ট্রাম্পের প্রশাসনের অনুরোধে মুক্তি পেয়েছিলেন তালেবান নেতা বারাদার

বিদেশ ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২১, ২৩:১৮আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২১, ২৩:১৮

তালেবানের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লাহ আব্দুল গনি বারাদার তিন মাস আগে পাকিস্তানের কারাগার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে মুক্তি পান। মাত্র ৯ মাস আগে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে দোহাতে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেন।  

রবিবার তালেবান যোদ্ধারা কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং আফগানিস্তানের পরবর্তী নেতা হওয়ার পথে রয়েছেন এই বারাদার।     

তালেবানের মূলনেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হলেও গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক প্রধান হলেন বারাদার। তালেবানের সবচেয়ে পরিচিত মুখ তিনি এবং কাতারে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন।

৯/১১-এর পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানের সময় তৎকালীন তালেবান প্রধান মোল্লাহ ওমরের অধীনেত উপ-নেতা ছিলেন ৫৩ বছর বয়সী বারাদার। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি দোহা থেকে কাবুল পৌঁছান বলে জানা গেছে।

১৯৬৮ সালে উরুজগান প্রদেশে জন্ম নেওয়া বারাদার বেড়ে উঠেছেন কান্দাহারে। এটিই তালেবানের জন্মস্থান। তিনি ১৯৮০-র দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মুজাহিদিনদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েতরা চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মুজাহিদিনদের লড়াই অব্যাহত ছিল।

এরপরই সেখানে রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ দেখা দেয়। ওই সময় কান্দাহারে মোল্লাহ ওমরকে নিয়ে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করেন বারাদার। তারা দুজনেই তালেবান আন্দোলন গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৬ সালে তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে।

তালেবানের আগের পাঁচ বছরের শাসনামলে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেছেন বারাদার। ২০০১ সালে মার্কিন অভিযানের সময় তিনি ছিলেন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তালেবান সরকারের পতন হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং নির্বাসনে থাকা নেতৃত্বের মধ্যে সক্রিয় ছিলেন।

২০১০ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পাকিস্তানের করাচিতে তাকে শনাক্ত করে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারির মাসে তাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। কিন্তু ২০১৮ সালে কাতারে তালেবানের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধে তাকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল, শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি সহযোগিতা করতে পারবেন।

কিন্তু ২০২০ সালে বারাদার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দোহা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তির শর্তের মধ্যে ছিল মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান ত্যাগ করবেন এবং তালেবান আশরাফ গণির সরকারের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করবে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তৎকালীণ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে ছবিতে দেখা গেছে।  

দোহা চুক্তিকে ওই সময় শান্তির ঘোষণা হিসেবে মনে করা হলেও এখন প্রমাণিত হয়েছে এটি তালেবানের একটি চাল ছাড়া কিছু না। তারা অপেক্ষায় ছিল হাজারো মার্কিন সেনা কবে দেশ ছেড়ে যাবে। এরপরই তারা দেশটি দখলে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। এতে করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের দুই দশকের পরিশ্রম বিফলে যায়। সূত্র: ডেইলি মেইল

/এএ/
টাইমলাইন: আফগানিস্তান সংকট
০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:১৫
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৯
০৫ অক্টোবর ২০২১, ২০:১০
সম্পর্কিত
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের