কাজে ফিরতে না পারায় ক্ষুব্ধ আফগান নারীরা

বিদেশ ডেস্ক
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১২আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৮

নারীদের কাজে যোগ না দিতে তালেবানের নির্দেশ সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। হাজারো নারী শিক্ষক ও লাখো মেয়েদের মাধ্যমিক স্কুলে নিষিদ্ধ করার পর সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও দফতরের কয়েক হাজার নারী কর্মীকে কাজে যোগদানের বদলে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাটকীয় অধিকার হরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির নারীরা। ফরাসী বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত হওয়া এক নারী বলেন, ‘আমিও হয়ত মরে যাব। পুরো বিভাগের দায়িত্ব ছিল আমার কাঁধে। আমার সঙ্গে কাজ করতেন অনেক নারী। এখন আমরা আমাদের সব কাজ হারিয়েছি।’

তালেবানের প্রথম শাসনামলে নারীদের শিক্ষা ও কাজের অধিকার বঞ্চিত করা হয়েছিল। মার্কিন ও বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর গত মাসে তালেবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নারী অধিকারকে শ্রদ্ধা জানানো হবে ইসলামি আইনের আওতায়। তবে তালেবান ইসলামি আইন ব্যবস্থা শরিয়াহ আইনের কঠোর ব্যাখ্যাকেই মেনে চলে।

কাবুলে তালেবানের নিযুক্ত নতুন মেয়র পৌরসভার নারী কর্মীদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কাবুলের মেয়রের তথ্য অনুসারে, পৌরসভার প্রায় ৩ হাজার কর্মীই হলেন নারী। যেসব পদ পুরুষদের দিয়ে পূরণ করা যাবে সেগুলোতে কর্মরত নারীদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, যেমন- শহরের নারী টয়লেটে পুরুষরা কাজ করতে পারবে না। তাই এসব স্থানে নারীরা কাজ করবে।

ইসলামি গোষ্ঠীটি এরই মধ্যে আফগানিস্তানের নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দিয়েছে এবং কঠোর ইসলামি আইন বাস্তবায়নের জন্য নতুন একটি মন্ত্রণালয় সেখানে গঠন করেছে।

শনিবার আফগানিস্তানের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু হয়েছে। তবে শুধু ছেলে শিক্ষার্থী ও পুরুষ শিক্ষকদের ক্লাস রুমে ফিরতে বলা হয়েছে। তালেবান জানিয়েছে, নারীদের স্কুল পুনরায় চালু করার বিষয়ে কাজ করছে তারা।

অনেক আফগান নারী আশঙ্কা করছেন তারা আরও কখনও অর্থবহ কর্মসংস্থান পাবেন না। সংখ্যায় কম হলেও গত ২০ বছরে আফগান নারীরা মৌলিক অধিকার পেয়ে আসছিলেন। নারীরা আইনজীবী, বিচারক, পাইলট ও পুলিশ কর্মকর্তা হয়েছেন। যদিও তা বড় শহরগুলোতে।

দেশটির কর্মশক্তিতে যুক্ত হয়েছেন লাখো নারী। কিছু ক্ষেত্রে বিধবা নারী কিংবা উপার্জনে অক্ষম স্বামীর কারণে নিজেরাই অর্থ সংস্থানের জন্য কাজ করছিলেন। কিন্তু ১৫ আগস্ট তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নারীদের কাজের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাচ্ছে না। কেবল পুরুষদের নিয়ে গঠিত তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিবাদ করায় নারীদের বেধড়ক মারধর করেছে তালেবান যোদ্ধারা।

এই বিষয়ে তালেবান কর্মকর্তারা বলছেন, নারীদের নিরাপত্তার জন্যই তাদের বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। উপযুক্ত ব্যবস্থা প্রবর্তন হওয়ার পর তাদের কাজে ফিরতে বলা হবে।

সোমবার এক নারী শিক্ষক প্রশ্ন তুলেন, ‘এই দিন কবে আসবে? তালেবানের আগের শাসনামলেও এমনটি ঘটেছে। তারা বারবার বলতে কাজে নারীদের কাজ করতে দেবে। কিন্তু তা কখনও ঘটেনি।’

/জেজে/এএ/
টাইমলাইন: আফগানিস্তান সংকট
০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:১৫
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৯
০৫ অক্টোবর ২০২১, ২০:১০
সম্পর্কিত
পুরনো ব্যাটারি দিয়ে নতুন উপাদান তৈরি করছে চীন
বিশ্ব কারখানায় শ্রমিকদের প্রয়োজন কি ফুরিয়ে যাচ্ছে?
অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করে বছরে সুভদ্রার আয় ৩ কোটি রুপি
সর্বশেষ খবর
হংকংয়ের সঙ্গে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, বাড়বে বিনিয়োগের সম্ভাবনা
হংকংয়ের সঙ্গে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, বাড়বে বিনিয়োগের সম্ভাবনা
যে কারণে আচমকা ৯ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে এলো প্লেন 
যে কারণে আচমকা ৯ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে এলো প্লেন 
দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চাই: সিইসি
দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চাই: সিইসি
মেট্রোরেলে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক-কলসেবা চেয়ে ডিএমটিসিএলকে আইনি নোটিশ
মেট্রোরেলে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক-কলসেবা চেয়ে ডিএমটিসিএলকে আইনি নোটিশ
সর্বাধিক পঠিত
বাঁধনের ওপর হামলা: আসিফ নজরুল বললেন, ‘ব্যবস্থা নিলে শূন্য হাতে ফিরতে হবে’
বাঁধনের ওপর হামলা: আসিফ নজরুল বললেন, ‘ব্যবস্থা নিলে শূন্য হাতে ফিরতে হবে’
সৌদি আরবে কোনও নদী নেই, কীভাবে বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে ৩৭ মিলিয়ন মানুষ
সৌদি আরবে কোনও নদী নেই, কীভাবে বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে ৩৭ মিলিয়ন মানুষ
সরিষার তেলের নামে অন্য তেল, মধুতে চিনির সিরাপ: সংসদে সানসিলা
সরিষার তেলের নামে অন্য তেল, মধুতে চিনির সিরাপ: সংসদে সানসিলা
বাঁধনের ওপর হামলা: মনিরুলকে নিয়ে বিপদে পড়ে গেলো তার পরিবার
বাঁধনের ওপর হামলা: মনিরুলকে নিয়ে বিপদে পড়ে গেলো তার পরিবার
পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি
পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি